যৌন হেনস্থার অভিযোগ! মধ্যপ্রদেশে ২ দলিত যুবককে বেধড়ক মারধর করে খাওয়ানো হল ‘মল’

- আপডেট : ৭ জুলাই ২০২৩, শুক্রবার
- / 8
পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রদেশে দুই যুবকের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে তাদের জোর করে ‘মল’ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠল। গলায় জুতোর মালা পরিয়ে মুখে কালি লেপে ঘোরানো হল গোটা গ্রাম। বৃহস্পতিবার দুই মহিলা-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিগৃহীত দুই যুবকই দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে। এর মধ্যে একজন জান্তব অপর জন অনগ্রসর শ্রেণি কেওয়াত সম্প্রদায়ের। দুই যুবকের উপরেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে জুতোর মালা পরিয়ে মুখে কালি মাখিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়। এর পর তাদের দুজনকে মল খাওয়ানো হয়।
৩০ জুন নারওয়ার এলাকায় ভারাখাদি এলাকার ঘটনা। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পুলিশের হাতে সেই ভিডিয়ো পৌঁছলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়। পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনাটি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে, হামলাকারীরা মিথ্যা বয়ান দিয়েছে। সব তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র এই ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, ‘তালিবানি’ কায়দায় তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। এই ধরনের কাজ মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিবপুরির স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) চালু করা সহ তাদের অবৈধভাবে নির্মিত সম্পত্তি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাগরোনি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দীপক শর্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত গ্রামবাসীরা দাবি করেন যে, ওই দুই যুবক গ্রামের মহিলাদের হেনস্থা করেছেন। তাঁদের আপত্তিকর ছবি তুলেছেন। এমনকি তাঁদের এই কাজ সিসিটিভিতেও ধরা পড়েছে। তবে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই দুই যুবক গ্রামের কয়েক জন তরুণীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। সামনাসামনি দেখা করেননি।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন আদিবাসী শ্রমিকের শরীরে প্রস্রাব করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রবেশ শুল্ক নামে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই নেতাকে। তার বাড়ি বুলডোজ করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান। নিগৃহীত শ্রমিক দশম রাওয়াতের পা ধুইয়ে তাঁকে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী। চারদিনের মাথায় ফের সেই মধ্যপ্রদেশেই দলিত হেনস্থার অভিযোগ উঠল।