০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিপন্ন এশীয় সিংহ, ৫ বছরে ৬৬৯টি সিংহের মৃত্যু

চামেলি দাস
  • আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার
  • / 33

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: এশীয় সিংহের অস্তিত্ব বিপন্ন। পাঁচ বছরে প্রায় ৬৬৯টি এশীয় সিংহের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যসভায় একটি বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছে। তবে সিংহের মৃত্যুর কারণ হিসাবে শিকারকে দায়ী করা হয়নি। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বার্ধক্য এবং অসুস্থতা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, খোলা কূপে পড়ে যাওয়া, সেখানকার আঞ্চলিক পরিবেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার সিংহ নিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ২৭ মার্চ এ বিষটি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে এশীয় সিংহ বিলুপ্তির পথে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার জানিয়েছে, “মানুষের কার্যকলাপের জন্য সিংহের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ধীরে ধীরে এশীয় সিংহ বিলুপ্তি পথে। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকেও সিংহ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: একধাক্কায় ৭৮৪ ওষুধের দাম বৃদ্ধি

২০২০ সালের জুন মাসে, ভারতে প্রায় ৬৭৪টি এশিয়াটিক সিংহ ছিল।  ২০১৫ সালে সংখ্যা ছিল ৫২৩টি। ২০১৫ সালে ২২ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে সিংহের এলাকা প্রসারিত ছিল। ২০২০ সালে তা ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে এশিয়াটিক সিংহদের দিউ দ্বীপে সাঁতার কাটতে দেখা যেত। দিউ প্রশাসনের অনুরোধে, মানুষের বসতির প্রভাবের আশঙ্কায় সিংহদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৭টি সিংহ মারা যায়। ৩৭টি সিংহকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট ছয় মাসের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে সিংহদের স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এক দশক পেরিয়ে গেলেও সিংহগুলি এখনও গুজরাটে রয়েছে। ইতিমধ্যে গুজরাট সরকার একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। গির থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বরদা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। যেখানে সিংহের একটি আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। ২০২২ সালে  প্রাক্তন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে বলেছিলেন, বরদা ৪০টি প্রাপ্তবয়স্ক এবং উপ-প্রাপ্তবয়স্ক সিংহকে আশ্রয় দিতে পারে। সিংহদের দু’টি উপ-প্রজাতিতে ভাগ করা হয়। আফ্রিকান সিংহ এবং এশিয়াটিক সিংহ। তবে, আইইউসিএন এসএসসি ক্যাট স্পেশালিস্ট গ্রুপ পরবর্তীতে এটি সংশোধন করে। প্যানথেরা লিও লিও (মধ্য আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং এশিয়া – ভারতের এশিয়াটিক সিংহ সহ) এবং প্যানথেরা লিও মেলানোচাইটা (দক্ষিণ এবং পূর্ব আফ্রিকা)।ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়াজুড়ে মানুষের বসতি ছড়িয়ে পড়ার ফলে সিংহদের এলাকা ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায ইতিমধ্যেই সিংহ ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।

 

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিপন্ন এশীয় সিংহ, ৫ বছরে ৬৬৯টি সিংহের মৃত্যু

আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: এশীয় সিংহের অস্তিত্ব বিপন্ন। পাঁচ বছরে প্রায় ৬৬৯টি এশীয় সিংহের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যসভায় একটি বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছে। তবে সিংহের মৃত্যুর কারণ হিসাবে শিকারকে দায়ী করা হয়নি। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বার্ধক্য এবং অসুস্থতা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, খোলা কূপে পড়ে যাওয়া, সেখানকার আঞ্চলিক পরিবেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার সিংহ নিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ২৭ মার্চ এ বিষটি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে এশীয় সিংহ বিলুপ্তির পথে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার জানিয়েছে, “মানুষের কার্যকলাপের জন্য সিংহের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ধীরে ধীরে এশীয় সিংহ বিলুপ্তি পথে। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকেও সিংহ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: একধাক্কায় ৭৮৪ ওষুধের দাম বৃদ্ধি

২০২০ সালের জুন মাসে, ভারতে প্রায় ৬৭৪টি এশিয়াটিক সিংহ ছিল।  ২০১৫ সালে সংখ্যা ছিল ৫২৩টি। ২০১৫ সালে ২২ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে সিংহের এলাকা প্রসারিত ছিল। ২০২০ সালে তা ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে এশিয়াটিক সিংহদের দিউ দ্বীপে সাঁতার কাটতে দেখা যেত। দিউ প্রশাসনের অনুরোধে, মানুষের বসতির প্রভাবের আশঙ্কায় সিংহদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৭টি সিংহ মারা যায়। ৩৭টি সিংহকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট ছয় মাসের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে সিংহদের স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এক দশক পেরিয়ে গেলেও সিংহগুলি এখনও গুজরাটে রয়েছে। ইতিমধ্যে গুজরাট সরকার একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। গির থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বরদা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। যেখানে সিংহের একটি আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। ২০২২ সালে  প্রাক্তন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে বলেছিলেন, বরদা ৪০টি প্রাপ্তবয়স্ক এবং উপ-প্রাপ্তবয়স্ক সিংহকে আশ্রয় দিতে পারে। সিংহদের দু’টি উপ-প্রজাতিতে ভাগ করা হয়। আফ্রিকান সিংহ এবং এশিয়াটিক সিংহ। তবে, আইইউসিএন এসএসসি ক্যাট স্পেশালিস্ট গ্রুপ পরবর্তীতে এটি সংশোধন করে। প্যানথেরা লিও লিও (মধ্য আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং এশিয়া – ভারতের এশিয়াটিক সিংহ সহ) এবং প্যানথেরা লিও মেলানোচাইটা (দক্ষিণ এবং পূর্ব আফ্রিকা)।ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়াজুড়ে মানুষের বসতি ছড়িয়ে পড়ার ফলে সিংহদের এলাকা ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায ইতিমধ্যেই সিংহ ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।