০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘গ্যাস আর বাজি একসঙ্গে?’— পাথরপ্রতিমার ট্র্যাজেডিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

চামেলি দাস
  • আপডেট : ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার
  • / 31

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: “রান্নার গ্যাস আর বাজি একসঙ্গে রাখা যায়?”— প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে পাথরপ্রতিমার এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে সদ্যোজাত-সহ আট জনের মৃত্যু নিয়ে গভীর শোকপ্রকাশের পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় যেখানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেটার লাইসেন্স প্রাপ্ত ক্র্যাকার। কিন্তু গুজরাটে যারা মারা গিয়েছেন তারা বেআইনি বাজিকারখানায় বিস্ফোরণ হয়ে মারা গিয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ অসচেতনতা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। মজুত বাজির পাশে গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই দুর্ঘটনা। আর সে কারণেই কিছুটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, লাইসেন্স থাকলেই দায় সারা যায় না। বাড়িতে কেউ গ্যাস রাখবে, আবার বাজিও মজুত থাকবে— এটা কী ধরনের বুদ্ধি? এতবার বলার পরও সাবধানতা মানা হচ্ছে না। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণ চলে গেল, ভাবতেই বুকটা ভেঙে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: জীবনদায়ী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি: নবান্ন থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার, রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

তিনি একথাও বলেছেন বছরের শেষ দিকে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটে, ইচ্ছা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বীমার অর্থ পেতে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন এসব থেকে বাঁচার একটাই উপায় সচেতনতা। প্রসঙ্গত, ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকার। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় বণিক পরিবারের আট সদস্যের— যাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার শিশু ও দু’জন সদ্যোজাত। বিস্ফোরণের উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগেছিল, না কি বাজি থেকেই শুরু— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের দাবি, গত ১০ বছর ধরে চলছিল ওই কারখানা। কিন্তু তাদের লাইসেন্সের অবস্থা, বাজি মজুতের নিয়ম মানা হচ্ছিল কি না— সবই তদন্তের আওতায়। পুলিশের বক্তব্য, “এটা দুর্ঘটনা, কিন্তু এর পেছনে আছে চূড়ান্ত অবহেলা। সচেতনতার অভাবই একের পর এক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।”কিসের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিসেম্বর থেকে মার্চ— এই সময়টা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে। প্লাস্টিক গোডাউন হোক বা বাজির গুদাম, যদি অনেক দাহ্য বস্তু একসঙ্গে রাখা হয়, তাহলে বিপদ অনিবার্য।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসবে। জনবসতিহীন এলাকায় বাজি মজুতের জন্য নির্দিষ্ট ‘সেফ জোন’ চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।“সরকার প্রস্তুত, কিন্তু মানুষকে সাবধান হতে হবে,” বলেন মমতা। “আমি চাই না, আর কোনও বাড়ি এক রাতেই শেষ হয়ে যাক। একটা পরিবারকে হারানোর যন্ত্রণা কখনও পুষিয়ে দেওয়া যায় না।”

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘গ্যাস আর বাজি একসঙ্গে?’— পাথরপ্রতিমার ট্র্যাজেডিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: “রান্নার গ্যাস আর বাজি একসঙ্গে রাখা যায়?”— প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে পাথরপ্রতিমার এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে সদ্যোজাত-সহ আট জনের মৃত্যু নিয়ে গভীর শোকপ্রকাশের পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় যেখানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেটার লাইসেন্স প্রাপ্ত ক্র্যাকার। কিন্তু গুজরাটে যারা মারা গিয়েছেন তারা বেআইনি বাজিকারখানায় বিস্ফোরণ হয়ে মারা গিয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ অসচেতনতা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। মজুত বাজির পাশে গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই দুর্ঘটনা। আর সে কারণেই কিছুটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, লাইসেন্স থাকলেই দায় সারা যায় না। বাড়িতে কেউ গ্যাস রাখবে, আবার বাজিও মজুত থাকবে— এটা কী ধরনের বুদ্ধি? এতবার বলার পরও সাবধানতা মানা হচ্ছে না। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণ চলে গেল, ভাবতেই বুকটা ভেঙে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: জীবনদায়ী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি: নবান্ন থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার, রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা

তিনি একথাও বলেছেন বছরের শেষ দিকে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটে, ইচ্ছা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বীমার অর্থ পেতে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন এসব থেকে বাঁচার একটাই উপায় সচেতনতা। প্রসঙ্গত, ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকার। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় বণিক পরিবারের আট সদস্যের— যাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার শিশু ও দু’জন সদ্যোজাত। বিস্ফোরণের উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগেছিল, না কি বাজি থেকেই শুরু— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের দাবি, গত ১০ বছর ধরে চলছিল ওই কারখানা। কিন্তু তাদের লাইসেন্সের অবস্থা, বাজি মজুতের নিয়ম মানা হচ্ছিল কি না— সবই তদন্তের আওতায়। পুলিশের বক্তব্য, “এটা দুর্ঘটনা, কিন্তু এর পেছনে আছে চূড়ান্ত অবহেলা। সচেতনতার অভাবই একের পর এক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।”কিসের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিসেম্বর থেকে মার্চ— এই সময়টা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে। প্লাস্টিক গোডাউন হোক বা বাজির গুদাম, যদি অনেক দাহ্য বস্তু একসঙ্গে রাখা হয়, তাহলে বিপদ অনিবার্য।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসবে। জনবসতিহীন এলাকায় বাজি মজুতের জন্য নির্দিষ্ট ‘সেফ জোন’ চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।“সরকার প্রস্তুত, কিন্তু মানুষকে সাবধান হতে হবে,” বলেন মমতা। “আমি চাই না, আর কোনও বাড়ি এক রাতেই শেষ হয়ে যাক। একটা পরিবারকে হারানোর যন্ত্রণা কখনও পুষিয়ে দেওয়া যায় না।”