পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে পাথরপ্রতিমায় বেআইনি বাজি কারখানা

- আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার
- / 31
পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পুলিশের নজরদারির অভাব সামনে চলে এল পাথরপ্রতিমায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে আট জনের প্রাণহানির ঘটনার পর। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেন, বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে কারখানা ছিল। বাড়িতে মজুত বাজি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই কারণে বিস্ফোরণে এতজনের প্রাণহানি হয়েছে। ১০ বছর ধরে এই কারখানা চলছিল। তবে কোন ধরনের লাইসেন্স ছিল, তা তদন্তের ব্যাপার। তিনি এদিন আরও বলেন, প্রতি বাড়িতে এত নজরদারি সম্ভব নয়, মানুষের ন্যূনতম সচেতনতাও তৈরি হয়নি। তবে এই ঘটনার পর থেকে বাজি তৈরির কারখানা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুলিশ। পাথরপ্রতিমার ঘটনায় বিস্ফোরণের ধারা নয়, ভারতীয় ন্যয় সংহিতার অন্যান্য চার-পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে আটক কারখানার এক মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক।এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি, দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ওই বাড়িতে মজুত করা বাজি থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজি বিস্ফোরণে ধৃত কারখানার মালিক, রিপোর্ট চাইল নবান্ন
এছাড়া সিলিন্ডারও বিস্ফোরণ হয়। তাতেই আগুন এতটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তবে আগে বাজিতে বিস্ফোরণ নাকি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগুনে বাজিতে লেগেছে, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা তা খতিয়ে দেখবেন। তবে বাড়িতে কেন বাজি মজুত ছিল, তা আমরা দেখছি।এর আগে ২০২২ সালে এই কারখানার অন্যতম মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে জামিন পান। তবে বাজি কারখানার লাইসেন্সের জন্য কোনও উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। বাড়ির কাছাকাছি কোনও বাজি কারখানা তৈরি হওয়ার কথা নয়। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখার কথা। এবার থেকে জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে যাতে বাজি কারখানা তৈরি হয়, তার জন্য কারখানা মালিক ও বাজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ।বিস্ফোরণের ঘটনা তো এ রাজ্যে কম ঘটেনি। তারপর ও পুলিশ কেন সতর্ক হয়নি? এই প্রশ্নের মুখে পড়ে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাউকে সতর্ক করা সম্ভব নয়। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। বাড়ির মধ্যে যে জায়গায় আপনি রান্না করছেন, সেখানেই সিলিন্ডার মজুত করছেন, কাছেই বাজি রাখছেন, তাহলে তো বিপদ হবেই। মানুষকে ন্যূনতম সতর্ক থাকতেই হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সেই সাবধানবাণী উড়িয়ে দিয়ে বেআইনি ভাবে এই ধরনের কারখানা চলছে। পাথরপ্রতিমার বণিকদের বাজি কারখানা তার বড় প্রমাণ। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির চোখ এড়িয়ে কি করে চলছিল এত দিন ধরে।