আল কুদস: ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ মানুষ

- আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার
- / 113
পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: শুক্রবার ইরান এবং সারা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আন্তর্জাতিক কুদস দিবস উদযাপন করতে রাস্তায় নামেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করতে এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র এবং তেহরানে ইন্তিফাদা কমিটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমেজান শরিফ জানান স্থানীয় সময় সকাল ১০:০০ নাগাদ শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ মিছিল। দেশের ৯০০টিরও বেশি শহরে ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণ প্রতিবাদ মিছিল করেন।
প্রতি বছর রমযান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয় আল কুদস দিবস। ১৯৭৯ সালে ইরানে শুরু হয়েছিল এই দিবস পালন। এর উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনী জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ, যায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইসরাইল কর্তৃক জেরুসালেম দখলের বিরুদ্ধে নেন। তাদের হাতে ছিল ইরান এবং ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। “ফ্রি প্যালেস্টাইন” এবং “আল-কুদসকে মুক্ত করতে হবে” লেখা ব্যানার হাতে তারা মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীর পতাকাও ছিল। যার মধ্যে ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী জনপ্রিয় মোবিলাইজেশন ইউনিট হাশদ আল-শাবি , লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমন বিশাল বিক্ষোভ বিভিন্ন পশ্চিম এশীয় দেশ, যেমন ইরাক, ইয়েমেন এবং লেবাননে, পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলে। সেখানে পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বক্তব্য রাখেন।
কালিবাফ জনতাকে বলেন, “আজ, ইরানের জনগণ ফিলিস্তিন এবং ইসলামি উম্মাহর পক্ষে দেশব্যাপী একটি বিশাল বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “ফিলিস্তিনিনের কাহিনি হল দশকের পর দশক করুন কাহিনী , যা শুধু ইসলামী বিশ্ব নয়, সারা মানবতার জন্যও বেদনাদায়ক।”
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি গণহত্যা, নৃশংসতা এবং অপরাধের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইরানের স্পিকার পশ্চিমা দেশের মানবাধিকার সর্ম্পকিত দুমুখো নীতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “এই ঘটনাগুলো পশ্চিমী সভ্যতার কপালে চিরকাল কলঙ্ক হয়ে রয়ে যাবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম এমন সংস্কৃতির দিকে আর ফিরবে না।” কালিবাফ বলেন, “ফিলিস্তিন একটি শক্তিশালী প্রাধান্যবাদী ব্যবস্থার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে।”
৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ইসরাইলি-অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের পাল্টা আক্রমণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, কালিবাফ বলেন, অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড ছিল “৭৭ বছরের যন্ত্রণা, ইসরাইলি অপশাসন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের বিরুদ্ধে এক ন্যায্য এবং বৈধ পদক্ষেপ।” ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইসরাইল এমন একটি দেশে আমেরিকা ছাড়া যার কোনো শক্তি নেই।
আজ ইসরাইলি শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে এক হেজিমনিক সিস্টেমের হত্যাকাণ্ডের যন্ত্র এবং অপরাধী হল আমেরিকা।” বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের অটল সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গাজার গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করার আহ্বান জানান।