০৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন কথা নয় : মোদি

বিমস্টেক সম্মেলন: উস্কানি ছড়ানো হাসিনাকে প্রত্যার্পণ করুন : ইউনূস 

ইমামা খাতুন
  • আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার
  • / 3

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পরে ব্যাঙ্ককে এই প্রথম তাঁর মুখোমুখি হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই প্রথম সাক্ষাতেই প্রতিবেশী দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানের কাছে সে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদি। পরে বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, ঢাকাকে ‘বাক্‌সংযম’-এরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার ইউনূসকে তিনি জানিয়েছেন, ‘পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন কথা’ এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এমন নীতি ও বিবেকেরবাণী সত্যিই মর্মস্পর্শী।কিন্তু এর অনুশীলন যদি সার্বিকভাবে করা যেত তাহলে কত ভালোই না হত। তাহলে অন্তত ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে বহির্বিশ্বের কটাক্ষের শিকার হতে হত না। মোদির মন্তব্য শুনে এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে শুক্রবার ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন ব্যাঙ্ককে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’তে শফিকুল বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যতগুলি বিষয় রয়েছে, তার সব ক’টি নিয়ে কথা হয়েছে। আলোচনায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে তিনি যে সব উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গ, সীমান্ত-হত্যা বন্ধ, গঙ্গাজল চুক্তির পুনর্নবীকরণ এবং তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ এসেছে। দুই শীর্ষনেতার আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’’ শফিকুল জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘তিনি (হাসিনা )বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক অভিযোগ করে আসছেন। আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করছি, তিনি আপনার দেশে থাকাকালে এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’ এদিন সম্মেলনের শেষে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রা বিমসটেক চেয়ারম্যানশিপ অধ্যাপক ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেন।

ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ দুই নেতা বৈঠক করেন।

বৈঠকের শেষপর্যায়ে নরেন্দ্র মোদিকে দুজনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ছবি উপহার দেন ড. ইউনূস। ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বইয়ে ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে ড. ইউনূসকে স্বর্ণপদক দেওয়ার সময় মোদির সঙ্গে এই ছবি তোলা হয়।

বৈঠকের পর ড. ইউনূসকে জানানো নরেন্দ্র মোদির অবস্থানের কথা তুলে ধরে ব্রিফ করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। বিক্রম মিশ্রি সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন। তারপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

বৈঠকের পর মোদি এক্সে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সাথে একটি গঠনমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সম্প্রতি চিন সফরে গিয়েছিলেন ইউনূস। চিনকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার আর্জি জানান তিনি। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি বলেন, “সমুদ্রের (বঙ্গোপসাগর) একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।” চিন এবং বাংলাদেশ লাগোয়া উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন যে, “ভারতের পূর্ব দিকের সাত রাজ্যকে বলা হয় সাত বোন। এগুলি স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা। এদের সমুদ্রে পৌঁছনোর কোনও পথ নেই।” সেভেন সিস্টার্স হিসেবে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে আঞ্চলিক সংগঠন বিমসটেকের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের পর এদিন এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মোদি।

Tag :

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন কথা নয় : মোদি

বিমস্টেক সম্মেলন: উস্কানি ছড়ানো হাসিনাকে প্রত্যার্পণ করুন : ইউনূস 

আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পরে ব্যাঙ্ককে এই প্রথম তাঁর মুখোমুখি হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই প্রথম সাক্ষাতেই প্রতিবেশী দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানের কাছে সে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদি। পরে বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, ঢাকাকে ‘বাক্‌সংযম’-এরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার ইউনূসকে তিনি জানিয়েছেন, ‘পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন কথা’ এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এমন নীতি ও বিবেকেরবাণী সত্যিই মর্মস্পর্শী।কিন্তু এর অনুশীলন যদি সার্বিকভাবে করা যেত তাহলে কত ভালোই না হত। তাহলে অন্তত ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে বহির্বিশ্বের কটাক্ষের শিকার হতে হত না। মোদির মন্তব্য শুনে এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে শুক্রবার ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন ব্যাঙ্ককে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’তে শফিকুল বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যতগুলি বিষয় রয়েছে, তার সব ক’টি নিয়ে কথা হয়েছে। আলোচনায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে তিনি যে সব উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গ, সীমান্ত-হত্যা বন্ধ, গঙ্গাজল চুক্তির পুনর্নবীকরণ এবং তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ এসেছে। দুই শীর্ষনেতার আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’’ শফিকুল জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘তিনি (হাসিনা )বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক অভিযোগ করে আসছেন। আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করছি, তিনি আপনার দেশে থাকাকালে এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’ এদিন সম্মেলনের শেষে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রা বিমসটেক চেয়ারম্যানশিপ অধ্যাপক ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেন।

ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ দুই নেতা বৈঠক করেন।

বৈঠকের শেষপর্যায়ে নরেন্দ্র মোদিকে দুজনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ছবি উপহার দেন ড. ইউনূস। ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বইয়ে ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে ড. ইউনূসকে স্বর্ণপদক দেওয়ার সময় মোদির সঙ্গে এই ছবি তোলা হয়।

বৈঠকের পর ড. ইউনূসকে জানানো নরেন্দ্র মোদির অবস্থানের কথা তুলে ধরে ব্রিফ করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। বিক্রম মিশ্রি সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন। তারপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

বৈঠকের পর মোদি এক্সে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সাথে একটি গঠনমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সম্প্রতি চিন সফরে গিয়েছিলেন ইউনূস। চিনকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার আর্জি জানান তিনি। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি বলেন, “সমুদ্রের (বঙ্গোপসাগর) একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।” চিন এবং বাংলাদেশ লাগোয়া উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন যে, “ভারতের পূর্ব দিকের সাত রাজ্যকে বলা হয় সাত বোন। এগুলি স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা। এদের সমুদ্রে পৌঁছনোর কোনও পথ নেই।” সেভেন সিস্টার্স হিসেবে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে আঞ্চলিক সংগঠন বিমসটেকের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের পর এদিন এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মোদি।