০৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ওয়াকফ বিল: দেশজুড়ে শুরু প্রতিবাদ

ইমামা খাতুন
  • আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার
  • / 2

Protest held by Joint Forum for Waqf Protection, a coalition of various Muslim organisations, against Waqf Bill in Kolkata | Salil Bera

নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল: বুধবার লোকসভায় তারপরের দিন রাজ্যসভায় পাস হয় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ১২৮টি ভোট পড়ে আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯৫টি। ফলে সহজেই সংসদের উচ্চকক্ষে বিল পাস করিয়ে নেয় সরকার পক্ষ। এবার রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে বিলটি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সই হলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। এদিকে, কেন্দ্রের এই বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। কলকাতার পাশাপাশি বড় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে গুজরাতের আহমদাবাদ ও তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে।

শুক্রবার জুম্মার নামায শেষ হওয়ার পরই পথে নামে মুসলিমরা। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগান দিতে থাকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের স্লোগান ছিল—‘আমরা ওয়াকফ বিল প্রত্যাখ্যান করছি’, ‘ওয়াকফ বিল ফিরিয়ে নাও’, ‘মুসলিমদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’, ‘অসাংবিধানিক পদক্ষেপকে ধিক্কার জানাই’…। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতার পার্কসার্কাস থেকে শুরু করে আহমদাবাদা ও চেন্নাইয়ের রাজপথ। আহমদাবাদের যে ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই বিলের বিরুদ্ধে বহু মানুষ পথে নেমেছে। শামিল হয়েছেন প্রবীণরাও। তাঁরাও এই বিলের বিরুদ্ধে স্লোগানে গলা মেলাচ্ছেন। গুজরাত পুলিশ অবশ্য প্রতিবাদ দমন করতে জোরকদমে ময়দানে নামে। অভিযোগ, প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গেও তারা জবরদস্তি করে। জোর করে টেনে- হিচরে বয়স্ক পুরুষ-মহিলাকে রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে মিম পার্টির প্রদেশ নেতা সহ মোট ৪০জনকে আটক করা হয়েছে।

বড় বিক্ষোভ, জমায়েত নজরে এসেছে চেন্নাইতেও। চেন্নাই, কোয়েম্বাটুর, তিরুচিরাপল্লির মতো বড় শহরগুলিতে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ঢল নামে। দক্ষিণী অভিনেতা বিজয়ের টিভিকে (তামিলাঙ্গ ভেত্তরি কাঝাগাম) দলের সমর্থকরাও পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়। তারা স্লোগান দেয়—‘ওয়াকফ বিল প্রত্যাহার করুন’, ‘মুসলিমদের অধিকার কাড়বেন না’…।

দিল্লিতেও প্রতিবাদ হয়। দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। একাধিক ছাত্র সংগঠন এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মোদি সরকারের ওয়াকফ বিলকে ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে।

 

দুপুর ২টা নাগাদ বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ নম্বর গেটের কাছে জড়ো হয়। স্লোগান দেয়। বিলের একটি প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়। ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিক্ষোভ দমন করতে স্বৈরাচারের লজ্জাজনক প্রদর্শন হয়েছে। জামিয়া প্রশাসন ক্যাম্পাসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সমস্ত গেট বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রদের বিক্ষোভে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও ছাত্রদের প্রবল চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ শেষপর্যন্ত গেট খুলতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা বিপুল সংখ্যায় গেটের সামনে জড়ো হলে প্রশাসন গেট খুলতে বাধ্য হয়েছিল। উল্লেখ্য, জামিয়া নগর এবং শাহিনবাগ চত্বরে পুলিশ বিশেষ নজর রেখেছিল। সিএএ, এনআরসি’র বিরুদ্ধে এখানে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছিল। এবার আগে থেকেই তৈরি প্রশাসন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় পুলিশি টহলদারি জারি রয়েছে।

Tag :

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ওয়াকফ বিল: দেশজুড়ে শুরু প্রতিবাদ

আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার

নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল: বুধবার লোকসভায় তারপরের দিন রাজ্যসভায় পাস হয় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ১২৮টি ভোট পড়ে আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯৫টি। ফলে সহজেই সংসদের উচ্চকক্ষে বিল পাস করিয়ে নেয় সরকার পক্ষ। এবার রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে বিলটি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সই হলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। এদিকে, কেন্দ্রের এই বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। কলকাতার পাশাপাশি বড় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে গুজরাতের আহমদাবাদ ও তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে।

শুক্রবার জুম্মার নামায শেষ হওয়ার পরই পথে নামে মুসলিমরা। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগান দিতে থাকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের স্লোগান ছিল—‘আমরা ওয়াকফ বিল প্রত্যাখ্যান করছি’, ‘ওয়াকফ বিল ফিরিয়ে নাও’, ‘মুসলিমদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’, ‘অসাংবিধানিক পদক্ষেপকে ধিক্কার জানাই’…। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতার পার্কসার্কাস থেকে শুরু করে আহমদাবাদা ও চেন্নাইয়ের রাজপথ। আহমদাবাদের যে ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই বিলের বিরুদ্ধে বহু মানুষ পথে নেমেছে। শামিল হয়েছেন প্রবীণরাও। তাঁরাও এই বিলের বিরুদ্ধে স্লোগানে গলা মেলাচ্ছেন। গুজরাত পুলিশ অবশ্য প্রতিবাদ দমন করতে জোরকদমে ময়দানে নামে। অভিযোগ, প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গেও তারা জবরদস্তি করে। জোর করে টেনে- হিচরে বয়স্ক পুরুষ-মহিলাকে রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে মিম পার্টির প্রদেশ নেতা সহ মোট ৪০জনকে আটক করা হয়েছে।

বড় বিক্ষোভ, জমায়েত নজরে এসেছে চেন্নাইতেও। চেন্নাই, কোয়েম্বাটুর, তিরুচিরাপল্লির মতো বড় শহরগুলিতে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ঢল নামে। দক্ষিণী অভিনেতা বিজয়ের টিভিকে (তামিলাঙ্গ ভেত্তরি কাঝাগাম) দলের সমর্থকরাও পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়। তারা স্লোগান দেয়—‘ওয়াকফ বিল প্রত্যাহার করুন’, ‘মুসলিমদের অধিকার কাড়বেন না’…।

দিল্লিতেও প্রতিবাদ হয়। দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। একাধিক ছাত্র সংগঠন এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মোদি সরকারের ওয়াকফ বিলকে ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে।

 

দুপুর ২টা নাগাদ বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ নম্বর গেটের কাছে জড়ো হয়। স্লোগান দেয়। বিলের একটি প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়। ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিক্ষোভ দমন করতে স্বৈরাচারের লজ্জাজনক প্রদর্শন হয়েছে। জামিয়া প্রশাসন ক্যাম্পাসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সমস্ত গেট বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রদের বিক্ষোভে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও ছাত্রদের প্রবল চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ শেষপর্যন্ত গেট খুলতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা বিপুল সংখ্যায় গেটের সামনে জড়ো হলে প্রশাসন গেট খুলতে বাধ্য হয়েছিল। উল্লেখ্য, জামিয়া নগর এবং শাহিনবাগ চত্বরে পুলিশ বিশেষ নজর রেখেছিল। সিএএ, এনআরসি’র বিরুদ্ধে এখানে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছিল। এবার আগে থেকেই তৈরি প্রশাসন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় পুলিশি টহলদারি জারি রয়েছে।