ফিলিস্থিনিদের সমর্থন, ভারতীয় ছাত্রকে গ্রেফতার করল মার্কিন প্রশাসন

- আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৫, বৃহস্পতিবার
- / 108
ওয়াশিংটন, ২০ মার্চ: ফিলিস্থিনিদের সমর্থন করার অভিযোগে ভারতীয় ছাত্রকে বহিষ্কার করে আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়। এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর সেই ভারতীয় ছাত্র বদর খান সুরিকে গ্রেফতার করল মার্কিন প্রশাসন। দেশটির এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার ওই ভারতীয় ছাত্রকে গ্রেফতার করে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রাক্তন ছাত্র সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক করছিলেন। ছাত্র ভিসায় পড়াশোনা করার পাশাপাশি শিক্ষকতা করতেন সুরি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে ভার্জিনিয়ার তাঁর বাড়ির বাইরে থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বিদেশনীতির সমালোচনা ও বিরোধিতা করার অভিযোগে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতীয় ছাত্রের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ দিকে বদর খান সুরির মুক্তি দাবিতে মার্কিন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার আইনজীবী হাসান আহমেদ। তিনি দাবি করেছেন, সুরির স্ত্রী আমেরিকার নাগরিক। তিনি ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের ঐতিহ্যকে সমর্থন করেন। এই কারণেই তাঁকে শাস্তি দিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরি এবং তার স্ত্রী হামাসকে সমর্থন করে বলে সন্দেহ করে ট্রাম্প সরকার। ইসরাইল-আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন বিদেশনীতির বিরোধিতা করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবীর অভিযোগ, “হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচয় দিয়ে মুখোশ পরে সুরিকে গ্রেফতার করা হয়।” হাসান আহমেদের বক্তব্য, তার কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুরির সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
জর্জটাউনের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ছাত্রকে। তাঁর কথায়, “সুরি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত এবিষয়ে আমরা অবগত নই। তাকে ঠিক কি কারণে আটক করা হয়েছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা সবসময় বিরুদ্ধ মতামতকে সমর্থন করি। আশা করি, সুরি সঠিক আইনি বিচার পাবে।” প্রসঙ্গত, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ছাত্রী রঞ্জনি শ্রীনিবাসন ‘সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদে মদত’ এবং হামাসের সমর্থনপুষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ভিসা বাতিল করে ট্রাম্প সরকার। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শ্রীনিবাসন। এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে ফের ভারতীয় ছাত্রকে আটক করল মার্কিন প্রশাসন।