জানেন সুন্দরবনে রয়েছে লর্ড ক্যানিং-এর বাড়ি, এখন তার কি অবস্থা!
- আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার
- / 4
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং। বহু স্মৃতি বুকে টেনে নিয়ে চলে আসছে এই ক্যানিং। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখানে অনেক কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাএ রক্ষাবেক্ষনের অভাবে।
এই ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর আর নেই সেই মাতলামি। কিন্তু এক সময় এই মাতলার রূপ ছিল অন্যরকম, ছিল প্রবল খরোস্রোতা। এটা ছিল বন্দর গড়ার উপযুক্ত। আর তাই এই মাতলা নদীকে ঘিরে সেই সময় বন্দর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিল ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। যার মূল কেন্দ্রে পোর্ট ক্যানিং এ হবে কোম্পানির অফিস। কোম্পানি না থাকলেও অফিসটি এখনো বর্তমান। যেটি লোক মুখে ‘লর্ড ক্যানিং’ এর বাড়ি নামেই পরিচিত। যদিও ভগ্নপ্রায় হয়ে সুন্দরবনের ক্যানিং থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পথে ওই ঐতিহাসিক নিদর্শন। তিন বছর আগে সরকারিভাবে এই বাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। হেরিটেজ দপ্তরের দুটি ফলক বসেছে। সরকারি তরফে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়া বিশাল আকারের প্রাসাদসম বাড়িটিকে রক্ষনাবেক্ষনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ইংরেজ বণিকের মানদণ্ড যখন এদেশে রাজদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই ব্যবসা বাড়াতে ক্যানিংয়ে শুরু হয়েছিল বন্দর গড়ার তোড়জোড়। সিঙ্গাপুরের বন্দরকে টেক্কা দিতে মাতলা নদীর তীরে আধুনিক বন্দর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই বন্দর গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন লর্ড ক্যানিং। বন্দর গড়ার কাজ শুরু হয় ১৮৭০ সালে। গঠিত হয় ‘পোর্ট ক্যানিং ল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিক্লামেশন এন্ড ডক কোম্পানি’। প্রায় দুশো বছর আগে নির্মিত এই বাড়িটি তখন প্রশাসনিক ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হতো। তবে বাড়িটি সঠিক কবে তৈরি হয়ে ছিল সে বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় নি।ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বাড়াতে ১৮৬২ সালে শিয়ালদহ থেকে ক্যানিং পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করে কোম্পানি।
লর্ড ক্যানিংয়ের এই বাসভবনটি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার অর্থাৎ ক্যানিং স্টেশন থেকে হাঁটাপথে কয়েক মিনিটের রাস্তা। প্রাচীন ভবনটির এখন জরাজীর্ণ অবস্থা। লোহার মূলগেটের ফটকটি বহুকাল আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরু মোটা দেওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। বাড়ির গায়ে গজিয়ে উঠেছে হাজারো প্রজাতির আগাছা। কয়েক মাস আগে প্রবল বৃষ্টিতে বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। বাড়ির দুটি মহল মিলে অন্তত ১৬ টি ঘর আছে। কড়ি কাঠের ছাদের উচ্চতা অন্তত ১৫ ফুট। ভূগর্ভের কয়েকটি ঘর আছে যা একসময় গুপ্ত কুঠির হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সেই সব গুপ্ত কুঠির ঘরগুলি। লেডি ক্যানিং বহুবার এই বাড়িতে এসে রাত্রি যাপন করেছেন। ইংরেজদের শেষ স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি আজও ক্যানিংয়ের গর্ব।তবে কালের বিবর্তনে এটাও হারিয়ে যেতে বসেছে।